মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:৫৮ এএম
মোঃ হাসানুর জামান বাবু। রাজনীতিতে আদর্শিক নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা জরুরি নেতৃত্ব বা লিডারশিপ হলো যে কোনো দলের একজন নেতার শৈল্পিক কৌশল ও আদর্শিক সক্ষমতা। নেতৃত্বের সঙ্গে নৈতিকতার একটি বিশেষ যোগসূত্র রয়েছে। এটি নেতার এমন একটি সক্ষমতা, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে দল, গোষ্ঠী, সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিয়ে প্রভাবিত করা ও পরিচালিত করা সম্ভব হয়। নেতৃত্বের সঙ্গে নেতার নৈতিকতার সম্পর্ক নিবিড়। নীতিহীন নেতৃত্ব ব্যক্তি চরিত্রের অবক্ষয়ের শামিল। রাজনৈতিক দলের বা প্রতিষ্ঠানের নেতারা নীতিবোধের বিষয়ে যে উপযুক্ত নেতৃত্বের আচরণ প্রদর্শন করে, সেটি হতে হবে একটি ইতিবাচক উপায়ে, যা সাংগঠনিক সংযোগকে বেশ প্রভাবিত করতে পারে। এজন্য তিনটি মৌলিক উপাদান বেশ গুরুত্বপূর্ণ; এক. আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ, আচরণ এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বে নিজেকে ও অন্যদের সম্মান করা। দুই.দলের হাইকমান্ড, নেতাকর্মী , সমর্থক শুভাকাঙ্ক্ষী এবং জনসাধারণের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ স্থাপন ও পারস্পরিক সমর্থন বৃদ্ধি করা; এবং তিন. সবকিছুতে রোল মডেল হওয়ার জন্য নিজের নেতাকর্মী , তৃনমূল সমর্থক এবং সমাজের সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সহযোগিতা পেতে নেতাদের সার্বিক অনুশীলন অব্যাহত রাখা। জর্জ মার্শালের মতে, নৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নেতা বা প্রশাসকদের জন্য একটি শক্তিশালী স্ক্যাফোল্ড বা মানসম্পন্ন পরিমাপক থাকা উচিত, যার মাধ্যমে নেতা তার নেতাকর্মী দল ও কর্মী সমর্থক ও হাইকমান্ডসহ নিজেদের নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করে নৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করতে পারে। জনপ্রশাসনে নীতিশাস্ত্র একটি মূল ডোমেইন; বিশেষ করে, উন্নত রাষ্ট্রগুলোর অধিকাংশ রাজনৈতিক দলে নেতাকর্মীদের নীতি ও নৈতিক নেতৃত্বের গুণাবলি শিক্ষা দেওয়া হয়। প্রশাসনিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে নেতাকর্মী সমর্থকদের নৈতিক নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নীতি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে, যা একটি রাজনৈতিক দলের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতা করতে পারে। যেমন- ব্যক্তিগত মনোবল : রাজনৈতিক দলের অনেক চ্যালেঞ্জ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে, যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে নেতা বা প্রশাসককে তার ব্যক্তিগত সাহস বা মনোবল বৃদ্ধি করতে হবে এবং তাদের একটি ইতিবাচক শিক্ষামূলক পরিবেশ তৈরি করার জন্য নীতিবিবর্জিত কাজগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। এছাড়া নিজের অধীনস্থ ও নেতাকর্মী সমর্থকদের কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে, এমন কিছু প্রতিষ্ঠার দৃঢ় ইচ্ছা ও মনোবল তৈরি করতে হবে। নিজের চেয়ে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া : রাজনৈতিক নেতাকে কর্মীও সমর্থকের জন্য যা সর্বোত্তম, তা অবশ্যই নেতার ব্যক্তিগত প্রয়োজন বা স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে জনস্বার্থ ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সব সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে একজন নেতাকে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ হতে হবে। সবার মতামত এবং চাহিদা সর্বদা দলীয় নেতা বা দল প্রধানদের স্বার্থের আগে থাকা উচিত। আত্মনিয়ন্ত্রণ, স্ব-শৃঙ্খলা ও সততা : নৈতিকতা বিবেচনা করার জন্য সব ধরনের নেতৃত্বে মূলত এ তিনটি বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। বৃহত্তর সম্প্রদায়ের অনুগামীরা নেতাদের দিকে তাকিয়ে থাকে এবং সে হিসাবে নেতাদের পক্ষে স্টেকহোল্ডারদের জীবনে একটি ইতিবাচক রোল মডেল এবং শক্তি থাকা প্রয়োজন। নেতা এবং অনুসারীদের মধ্যে সম্পর্কগুলো বিশ্বাসের ওপর খুব বেশি নির্ভর করা উচিত নয়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং নৈতিক কর্মের ওপর নির্মিত হওয়া উচিত। সততা, একাগ্রতা, সুশৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ দক্ষতা দলের নেতার নেতৃত্ব কৌশলের এক অন্যতম দিক। কর্মপরায়ণতা :রাজনৈতিক দলের নেতাদের অবশ্যই সাফল্যের একটি ভিত্তি তৈরি করতে হবে, যা কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগকারী নেতাকর্মী দায়িত্ববান নেতাকর্মীও কর্মশক্তি থেকে আসে। সফল নেতারা যখন সিদ্ধান্ত নেন, তখন অধীনস্থ নেতাকর্মীদের চাহিদার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে মূল চাবিকাঠি হলো, কর্মীদের ওপর অর্পিত কাজ ও তাদের শক্তি-সামর্থ্যরে মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি তৃনমূল কর্মীর বিভিন্ন চাহিদার ভিত্তিতে ঐক্য তৈরি করা। প্রতিভা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি : নৈতিক নেতারা তাদের অনুসারীদের প্রতিভা ও কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দেয়। এর অর্থ হলো, নেতারা ত্যাগী মেধাবী কৌশলী কর্মী সমর্থক উভয়কেই শনাক্ত করে, যারা শ্রেষ্ঠত্বের গুণাবলি প্রদর্শন করে তাদের সবার সামনে প্রচার করে থাকেন। ফলে, দলে সব সদস্যের মধ্যে একটি সুসম্পর্ক ও সদ্ভাব সৃষ্টি হয়। প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেওয়ার অন্য দিকটি হলো, এটিকে সবার কাছে সর্বাধিকভাবে পরিচিত করা, যাতে অন্যরা তা দেখে অনুপ্রাণিত হয় এবং সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ লাভ হয়। প্রত্যেকের কাছ থেকে উচ্চ নৈতিকতা প্রয়োজন : নেতাদের শুধু তাদের নিজস্ব নৈতিক মান নিয়েই নয়; বরং তাদের দলের অন্যদের নৈতিক মান নিয়েও চিন্তা করতে হবে। এটিতে শুধু নেতাকর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করা নয়; বরং তা তৃনমূল সমর্থক ও সাধারণ জনগণকে এর মধ্যেও প্রসারিত করতে হবে। এটিকে আরও কার্যকরী করতে এর গুণগত মানগুলো অবশ্যই সবাইকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে এবং কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই তা সব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হবে। সংবেদনশীলতা ও বোঝাপড়া : একটি রাজনৈতিক দলের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত স্টেকহোল্ডারদের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিবেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সব সদস্যের মধ্যে সমতা অনুশীলন করার জন্য সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার অনেক প্রয়োজন রয়েছে। এটি নৈতিক নেতৃত্বের সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে একটি। এ অনুশীলনটি অবশ্যই শিক্ষাগত ও আদর্শ নৈতিক নীতির মাধ্যমে প্রয়োগ করা উচিত। অন্তর্ভুক্তিকরণ : একটি রাজনৈতিক দলের নেতা সবকিছুকে নিজের মতো করে ভাবা এবং সেখানে আপন মনে করে সব কাজ করা একজন নেতার নেতৃত্বে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। নেতা হচ্ছেন দলে তার আওতাভুক্ত এরিয়ার একজন অভিভাবক, যিনি তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে একসঙ্গে একযোগে কাজ করবেন। সবাইকে কাজভিত্তিক একত্রিত করে কর্মবণ্টনের মাধ্যমে কোনো প্রজেক্ট সম্পন্ন করলে সেটিতে দ্রুত সফল হওয়া যায় এবং সেরা আউটপুট লাভ করা যায়। দলের সব সদস্যকে বিভিন্ন কাজে অন্তর্ভুক্ত করাই নেতার প্রধান নীতি। কারণ, অন্তর্ভুক্তি পদ্ধতির মাধ্যমে সব স্টেকহোল্ডারকে খুশি করা যায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কার্যকর ফল লাভ করা যায়। এতে দলের সব সদস্যকে বিবেচনা, মূল্যায়ন এবং সম্মান দেখানো হয় বলে তারা কর্মোদ্যমী হয় এবং তাদের মনোবল বৃদ্ধি পায়। ফলে নেতা কর্তৃক গৃহীত যে কোনো পদক্ষেপ সফল হয় এবং দলের সক্রিয়তা একতা কর্মক্ষমতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। পরমতের ওপর শ্রদ্ধাশীলতা : পরমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতা যে কোনো নেতার অন্যতম একটি সুন্দর নীতি, যার দ্বারা তিনি সবার মতামতই সমান গুরুত্ব দিয়ে শুনবেন এবং উপযুক্ত মনে হলে কাজে লাগাবেন। দল পরিচালিত হয়ে থাকে অধস্তন থেকে ঊর্ধ্বতন সব ব্যক্তির সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত ও পরামর্শ নেওয়া একজন নেতা বা দল প্রধানের একান্ত কর্তব্য। এতে সিদ্ধান্ত সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং তা বাস্তবায়ন করা অনেক সহজ হয়। অতএব, নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় নেতার নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শ-প্রদর্শন একটি অন্যতম প্রধান নীতি, যা ছাড়া নেতৃত্ব মূল্যহীন ও অসাড়। রাজনৈতিক দলের নেতারা নৈতিক বিবেচনার যখন উপরোল্লিখিত নীতিগুলো অনুসরণ করেন, তখন তাদের সামগ্রিক পরিবেশে উচ্চতর সাফল্য লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকে। নৈতিক নেতৃত্ব দলের সদস্যরা কখন কার সাথে কথাবার্তা বলছে বা কখন কার কাছে গেলো, শুধু এগুলোর ওপর নজরদারি করার জন্য নয়; বরং তাদের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি অন্যান্য কল্যাণধর্মী কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করে তা সম্পাদন করাই নেতৃত্বের প্রধান নীতি। দৃঢ় নৈতিক অনুশীলন কর্তব্যরত কর্মী ও অনুসারীদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক ও নেতৃত্ব প্রদর্শনের জন্য দৃষ্টান্তমূলক। সুতরাং, রাজনৈতিক দলের নেতার নেতৃত্বে নৈতিকতা স্থাপন অতীব আবশ্যক, যা দলের সার্বিক পরিবেশকে করে শান্তিময় এবং সাফল্য বয়ে আনে অফুরন্ত। লেখক:মিডিয়া কর্মী সাবেক ছাত্রনেতা ও ক্রীড়া সংগঠক।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী ও স... বিস্তারিত
শোক সংবাদ শোক সংবাদ, ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক কাজী আশরাফের মৃত্যু : ইন্নালিল্লাহি ওয়া ই... বিস্তারিত
সীতাকুণ্ড শীতলপুর শ্রী শ্রী লোকনাথ বাবার ২৯৬তম শুভ আবির্ভাব উৎসব। নন্দীনি চৌধুরি ( রিনা) চট্টগ... বিস্তারিত
নড়াইলে সাংবাদিক হেনস্থা মো গোলাম কিবরিয়া নড়াইল জেলা : নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের বন্নির মোড় ... বিস্তারিত
অনুপ্রেরণায় নবদিগন্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকারে ফুলবাড়ীর কৃতিদের বরণ করে নিল বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবি... বিস্তারিত
দীঘিনালায় হিল ভিডিপি সদস্যদের অর্থায়নে ওষুধ বিতরণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান দীঘি... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী ও স... বিস্তারিত
শোক সংবাদ শোক সংবাদ, ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক কাজী আশরাফের মৃত্যু : ইন্নালিল্লাহি ওয়া ই... বিস্তারিত
সীতাকুণ্ড শীতলপুর শ্রী শ্রী লোকনাথ বাবার ২৯৬তম শুভ আবির্ভাব উৎসব। নন্দীনি চৌধুরি ( রিনা) চট্টগ... বিস্তারিত
নড়াইলে সাংবাদিক হেনস্থা মো গোলাম কিবরিয়া নড়াইল জেলা : নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের বন্নির মোড় ... বিস্তারিত