বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪০ এএম
---------------------------------------------------- মোঃ হাসানুর জামান বাবু,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম নিস্ক্রিয় ও আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। দক্ষিণ জেলা বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জানান, দক্ষিণ জেলার নতুন আহ্বায়ক কমিটি হওয়ার পর কোনো উপজেলা ও পৌরসভায় একটি সাংগঠনিক মিটিং করতে না পারা। দক্ষিণ জেলা বিএনপির ব্যানারে কয়েকটি কর্মসূচি পালন করা হলেও হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কমিটির অধিকাংশ নেতাও সদস্য অনুপস্থিত থাকেন। কোনো উপজেলায় সাংগঠনিক কোনো মিটিং করার সাহস পাননি আহ্বায়ক নিজেই। সামাজিক কর্মসূচিতেও আহ্বায়ককে দাওয়াত দিলে সাড়া মেলে না বলে জানান তারা। জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সাবেক সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানকে আহ্বায়ক করে মোস্তাক আহমদ খানকে সদস্য সচিব করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির ৬৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ২০১৯ সালে ২ অক্টোবর কেন্দ্র অনুমোদন দেয়। সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী ও সাবকে এমপি গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েলের নেতৃত্বাধীন ১৫১ সদস্যের কমিটি ভেঙে দেয়া হয়। আহ্বায়ক ৩ মাসের মধ্যে জেলার আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির কমিটি গঠন করবেন। পরে উপজেলা ও পৌর নেতৃবৃন্দের ভোটের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কয়েকটি উপজেলা ও পৌরসভায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও পাল্টা পাল্টি কমিটি হয়েছে। পাল্টা পাল্টি কমিটির কারণে দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস ও অধ্যাপক শেখ মো.মহিউদ্দীন ও লিয়াকত চেয়ারম্যানকে বহিস্কার এবং মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানকে সর্তক করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি ও সাবেক পটিয়া উপজেলা বিএনপি সহ-সভাপতি সাবেক জিরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাবেক জনাব শফিকুল ইসলাম বলেন, আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে যখন কমিটি হয়েছিল তখন তৃণমূল নেতা কর্মীরা খুশি হয়েছিল। দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি তৃণমূল নেতা কর্মীদের হতাশ করেছে এবং পুর্ণাঙ্গ কমিটিও করতে পারেনি ও দলীয় কর্মসূচিতে সকল মতের সকল নেতার অনুসারীদের সবাইকে নিয়ে যাওয়ার মত কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি । চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি একজন সদস্য নামপ্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুণাঙ্গ কমিটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, দায়িত্ব নেয়ার পর করোনা ভাইরাস এবং সরকারের নির্যাতনের কারণে এলাকা ভিত্তিক সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে যারা উপস্থিত না হয়না দলের কোন কর্মকান্ডে দেখা যায় না তাদেরকে দলের কর্মী পরিচয় দেয়া লজ্জাজনক তারে দলের সমালোচক বলে তিনি মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী সভাপতি ও অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১০ সালে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সভাপতি ঠিক রেখে গাজী শাহজাহান জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক এবং শেখ মহিউদ্দিনকে সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়াকে সহ সভাপতি করে ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের দুটি গ্রুপ সৃষ্টি হয়। এরই পরিপেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কমিটি ২০১৯ সালে দক্ষিণ জেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ৬৫ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করলেও কার্যত যে লাউ সেই কদু অবস্হা। তারা দলের মধ্যে গতি সঞ্চালন করতে তো পাড়েনি আরো উল্টো প্রতিটি উপজেলা পৌরসভায় ত্যাগী নেতাদের বাদদেওয়া অভিযোগ উঠে এবং সর্বশেষ ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে অসন্তোষ ও প্রতিবাদ করে দলের ত্যাগী মেধাবী ছাত্রদল পদবঞ্চিত নেতারা।এর কারনেই নতুন দক্ষিণ জেলা ছাত্রদের প্রথম মিটিং এরদিন পদবঞ্চিত নেতা চট্টগ্রাম জেলা বিএনপি দোস্ত বিল্ডিং কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করলে পরে অবস্হা বেগতিক দেখে কয়েকজন প্রবীণ নেতার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এইসব ঘটনার রেশ কাটনে না কাটতেই চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি আহবায়ক আবু সুফিয়ান ও সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদ এর মধ্যে আবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিলে দুইজন দুইগ্রুপে বিভক্ত হয়।বিরক্ত হয়েই গত কয়েকদিন আগে কাকতালীয় ভাবে মোস্তাক আহমদ হঠাৎ করে দক্ষিণ জেলা বিএনপি সাবেক সেক্রেটারি পটিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল এর চট্টগ্রাম বাসভবনে দক্ষিণ জেলা বিএনপির বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের প্রোগ্রাম দিয়ে উপস্থিত হন এবং তাৎক্ষণিক একটি মতবিনিময় সভার মতো করে বিভিন্ন জন্য বিভিন্ন ভাবে বক্তব্য রাখেন। বেশির ভাগ নেতার বক্তব্যের বিষয় ছিলো বিভিন্ন উপজেলা পৌরসভা ইউনিয়নে পর্যন্ত আহবায়ক কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা নিজের অনুগত কর্মী দিয়ে কমিটির গঠনের কথা এবং কেউ কেউ সরাসরি বলেন টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন কমিটি বিক্রয় করার কথা তথ্যপ্রমাণ সহ তুলে ধরেন। এখন ঘটনাচক্রে নেতার বক্তৃতায় সেসব আহবায়ক কমিটির সদস্য দিকে আকার ইঙ্গিতে অভিযোগের তীর ছিলো এইসব বেশির ভাগ নেতাই হলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি'র সিনিয়র যুগ্ন-আহবায়ক জননেতা এনামুল হক এনামের অনুগত বলে জানা গেছে। একদিকে সদস্য সচিব মোস্তাক ও এনামুল হক এনামের সাথে আগে থেকেই ব্যবসায়ীক টাকাপয়সা লেনদেন নিয়ে মনোমালিন্য চলছে যা নিজেদের মধ্যে মীমাংসা না হওয়াতে এনামুল হক ১ কোটি ১৫ লাক টাকার চেক ডিসঅনার মামলা করেন মোস্তাকের বিরুদ্ধে,যা দল থেকে আদলত পর্যন্ত গড়াই।আবার এর মধ্যে মোস্তাক হঠাৎ করেই দলবল নিয়ে গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল এর বাসভবনে বৈঠক। সবমিলিয়ে মোস্তাকের উপর চরম ভাবে ক্ষেপেন এনামুল হক এনাম ও তার অনুসারীরা।এই অবস্হায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কাজীর দেওড়ী দলীয় কার্যালয়ে রোডমার্চ সফল করার প্রস্তুতি সভায় দক্ষিণ জেলা বিএনপি'র সদস্য সচিব জনাব মোস্তাক আহমদ উপস্থিত হলে কিছু বুঝে উঠার আগেই এনামুল হক এনামের অনুসারীরা মোস্তাকের উপর হামলা করে।এবং ঐহালমায় পাল্টা হামলা করে মোস্তাক অনুসারীরাও।এতে পুরো প্রস্তুতি সভা হট্টগোল অবস্হার সৃষ্টি হয় এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল নব গঠিত কমিটির সভাপতি সহ বেশকিছু নেতাকর্মী আহত হয়ে বার্তমানে চট্টগ্রাম বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং গুরুতর আহত সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদ প্রথমে চট্টগ্রাম একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হলেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে বর্তমানে তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে জানা গেছে। এদিকে এই ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি যুবদল ছাত্রদল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতা কর্মীও সমর্থকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ হতাশাও আতংক বিরাজ করছে এবং আগামী সভা সমাবেশও মিছিল মিটিং এ নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এইদিকে ঐদিনের ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে আজকেও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ব্যানারে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে ছাত্রনেতা এসএম হোসেন নয়নের নেতৃত্বে বিশাল এক মিছিল সড়ক প্রদক্ষিণ করতে দেখা গেছে।তারা বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে শোনা গেছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি অনেক প্রবীণ নেতাদের অভিমত, এইসব গ্রুপিং হামলা মামলা যতোদ্রুত সম্ভব কেন্দ্রীয় নেতাদের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে এবং আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে দুইজন দক্ষ শিক্ষিত বিচক্ষণ তরুণ মেধাবী নেতার নেতৃত্বে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা জরুরী। নাহয় এসব গ্রুপিং হামলা পাল্টা হামলা আরও বাড়বে।যার পরিপেক্ষিতে আগামীতে সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করতে অনিহা প্রকাশ করবে।
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী ও স... বিস্তারিত
শোক সংবাদ শোক সংবাদ, ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক কাজী আশরাফের মৃত্যু : ইন্নালিল্লাহি ওয়া ই... বিস্তারিত
সীতাকুণ্ড শীতলপুর শ্রী শ্রী লোকনাথ বাবার ২৯৬তম শুভ আবির্ভাব উৎসব। নন্দীনি চৌধুরি ( রিনা) চট্টগ... বিস্তারিত
নড়াইলে সাংবাদিক হেনস্থা মো গোলাম কিবরিয়া নড়াইল জেলা : নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের বন্নির মোড় ... বিস্তারিত
অনুপ্রেরণায় নবদিগন্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকারে ফুলবাড়ীর কৃতিদের বরণ করে নিল বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবি... বিস্তারিত
দীঘিনালায় হিল ভিডিপি সদস্যদের অর্থায়নে ওষুধ বিতরণ ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান দীঘি... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী ও স... বিস্তারিত
শোক সংবাদ শোক সংবাদ, ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক কাজী আশরাফের মৃত্যু : ইন্নালিল্লাহি ওয়া ই... বিস্তারিত
সীতাকুণ্ড শীতলপুর শ্রী শ্রী লোকনাথ বাবার ২৯৬তম শুভ আবির্ভাব উৎসব। নন্দীনি চৌধুরি ( রিনা) চট্টগ... বিস্তারিত
নড়াইলে সাংবাদিক হেনস্থা মো গোলাম কিবরিয়া নড়াইল জেলা : নড়াইলের বিছালী ইউনিয়নের বন্নির মোড় ... বিস্তারিত